৯ম গ্রেড সরকারি চাকরির MCQ প্রশ্ন ও উত্তর ব্যাখ্যাসহ: ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন (বাংলা ও সাধারণ জ্ঞান) | ফ্রি PDF
সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ভালো করতে চাইলে শুধু বই পড়লেই হয় না; নিয়মিত MCQ অনুশীলনও জরুরি। অনেক পরীক্ষার্থী বাংলা ব্যাকরণ, সাহিত্যের ইতিহাস ও সাধারণ জ্ঞানের তথ্য গুলিয়ে ফেলেন। এর বড় কারণ হলো উত্তর মুখস্থ করা হয়, কিন্তু উত্তরটি কেন সঠিক তা বোঝা হয় না। ব্যাখ্যাসহ অনুশীলন করলে একই প্রশ্ন ঘুরিয়ে এলেও সঠিক উত্তর দেওয়া সহজ হয়।
এই পোস্টে ৯ম গ্রেড সরকারি চাকরির পরীক্ষার উপযোগী ২৫টি MCQ আছে। প্রতিটি প্রশ্নের সঙ্গে সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নগুলো বিষয় ও উপবিষয় অনুযায়ী সাজানো, সঙ্গে আছে মনে রাখার টিপ, শর্টকাট সূত্র ও ৭ দিনের প্রস্তুতি রুটিন। পোস্টের একদম শেষে ফ্রি PDF ডাউনলোডের লিংক পাবেন।
এক নজরে এই MCQ সেট
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মোট প্রশ্ন | ২৫টি |
| বাংলা ভাষা ও সাহিত্য | ১৩টি (প্রশ্ন ১–১৩) |
| সাধারণ জ্ঞান | ১২টি (প্রশ্ন ১৪–২৫) |
| প্রশ্নের ধরন | বহুনির্বাচনি (ক, খ, গ, ঘ চারটি অপশন) |
| উত্তর ও ব্যাখ্যা | প্রতিটি প্রশ্নে আছে |
| কাদের জন্য উপযোগী | ৯ম গ্রেডসহ সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রার্থীরা |
| ডাউনলোড | ফ্রি PDF (পোস্টের একদম শেষে) |
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য MCQ ও ব্যাখ্যা (প্রশ্ন ১–১৩)
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস MCQ
মনে রাখার টিপ: বাংলা সাহিত্যের তিনটি যুগ: প্রাচীন যুগ (৬৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ), মধ্যযুগ (১২০১–১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ) ও আধুনিক যুগ (১৮০১–বর্তমান)। যুগের সীমাগুলো পাশাপাশি লিখে মুখস্থ করুন।
১. বাংলা সাহিত্যে আধুনিক পর্ব শুরু হয় কত শতকে?
ক. ১৮ খ. ১৭ গ. ১৯ ঘ. ২০
উত্তর: গ। ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষাবিদগণ বাংলা সাহিত্যকে তিনটি যুগে ভাগ করেছেন। এগুলো হলো– i. প্রাচীন যুগ (৬৫০ – ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ), ii. মধ্যযুগ (১২০১ – ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ) এবং iii. আধুনিক যুগ (১৮০১ – বর্তমান সময় পর্যন্ত)। মূলত ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং এই কলেজের পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে আধুনিক যুগে। ১৮০০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায় এবং ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়।
২. 'চর্যাপদ'-এর প্রাপ্তিস্থান কোথায়?
ক. বাংলাদেশ খ. নেপাল গ. উড়িষ্যা ঘ. ভুটান
উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ। ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং তার সম্পাদনায় 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে ১৯১৬ সালে তা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। চর্যাপদে ২৩ জন (মতান্তরে ২৪ জন) কবির মোট ৫০টি (মতান্তরে ৫১টি) পদ বা গান রয়েছে।
ধ্বনি ও বর্ণ MCQ
মনে রাখার টিপ: বাংলা বর্ণমালায় 'ঋ' স্বরবর্ণ। মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি: স্বরবর্ণ এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ। তালিকাটি একবার নিজে লিখে অভ্যাস করুন।
৩. সংস্কৃত প্রয়োগ অনুসারে বাংলা বর্ণমালায় 'ঋ' কোন বর্ণের মধ্যে রক্ষিত?
ক. উষ্মবর্ণ খ. স্বরবর্ণ গ. ব্যঞ্জনবর্ণ ঘ. ঘোষবর্ণ
উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: সংস্কৃত প্রয়োগ অনুসারে বাংলা বর্ণমালায় 'ঋ' স্বরবর্ণের মধ্যে রক্ষিত এবং এটি বাংলা ভাষার সপ্তম স্বরবর্ণ। এর উচ্চারণস্থান মূর্ধা। ধ্বনিবিজ্ঞান অনুসারে বাংলা ঋ-এর উচ্চারণ– i. শব্দের প্রথমে কোনো বর্ণের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হলে 'রি' (ঋণ, ঋষি) ii. অন্য বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে ঋ-এর উচ্চারণ হয় র-ফলা (হৃদয় = হৃদিয়, আদৃত = আদ্রিত)।
৪. বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা কয়টি?
ক. ৭টি খ. ৯টি গ. ৮টি ঘ. ১০টি
উত্তর: ঘ। ব্যাখ্যা: বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ মোট ১০টি মাত্রাহীন বর্ণ আছে। এছাড়া পূর্ণমাত্রা ৩২টি এবং অর্ধমাত্রা বর্ণ ৮টি।
ব্যাকরণ MCQ: উপসর্গ, প্রত্যয়, প্রকৃতি, সমাস, বিভক্তি ও ক্রিয়া
মনে রাখার টিপ: শব্দগঠনের প্রক্রিয়া দুটি: প্রত্যয়যোগে ও সমাসযোগে। উপসর্গ শব্দগঠনের উপাদানমাত্র, প্রক্রিয়া নয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি; পরা, অধি, পরি সংস্কৃত উপসর্গ, তাই এগুলোকে বাংলা উপসর্গ ভাববেন না।
৫. খাঁটি বাংলা উপসর্গ কোনটি?
ক. পরা খ. ইতি গ. অধি ঘ. পরি
উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: খাঁটি বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি: ইতি, অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু এবং হা। পুরনো অর্থে 'ইতি' উপসর্গের ব্যবহার– ইতিহাস, ইতিকথা এবং এ বা এর অর্থে ইতিকর্তব্য, ইতিপূর্বে। অন্যদিকে পরা, অধি ও পরি সংস্কৃত উপসর্গ।
৬. 'ফোড়ন' শব্দটি গঠিত হয়েছে–
ক. প্রত্যয়যোগে খ. সমাসযোগে গ. উপসর্গযোগে ঘ. সন্ধিযোগে
উত্তর: ক। ব্যাখ্যা: শব্দগঠন বলতে শব্দ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে বোঝায়। যে-কোনো ভাষায় শব্দগঠনের দুটি প্রক্রিয়া আছে। যথা: i. প্রত্যয়যোগে ও ii. সমাসযোগে। আর উপসর্গ শব্দগঠনের প্রক্রিয়া নয়, উপাদানমাত্র। √ফোড় + অন = ফোড়ন শব্দটি কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়েছে।
৭. শব্দ ও ধাতুর মূলকে বলে–
ক. বিভক্তি খ. ধাতু গ. প্রকৃতি ঘ. কারক
উত্তর: গ। ব্যাখ্যা: শব্দ ও ধাতুর মূলকে বলে প্রকৃতি। প্রকৃতি দুই প্রকার। যথা: i. নামপ্রকৃতি ও ii. ক্রিয়াপ্রকৃতি। অন্যদিকে, ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল। আর বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের অন্বয়সাধনের জন্য শব্দের সঙ্গে যেসকল বর্ণ যুক্ত হয় তাকে বলে বিভক্তি। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
৮. 'দেশান্তর' কোন সমাসের উদাহরণ?
ক. বহুব্রীহি খ. কর্মধারয় গ. নিত্য সমাস ঘ. অলুক তৎপুরুষ সমাস
উত্তর: গ। ব্যাখ্যা: যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমন: অন্য দেশ = দেশান্তর, অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র, অন্য গৃহ = গৃহান্তর, তুমি, আমি ও সে = আমরা, দুই ও নব্বই = বিরানব্বই ইত্যাদি।
৯. কোনটি প্রথমা বিভক্তির বহুবচন?
ক. এর খ. এরা গ. দিগকে ঘ. দিগের
উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের অন্বয়সাধনের জন্য শব্দের সঙ্গে যেসকল বর্ণ যুক্ত হয়, তাদের বিভক্তি বলে। বাংলা শব্দ বিভক্তি সাত প্রকার। রা, এরা, গুলি (গুলো), গণ হলো প্রথমা বিভক্তির বহুবচনের উদাহরণ। আর অ, এ (য়), তে, এতে হলো প্রথমা বিভক্তির একবচনের উদাহরণ।
১০. কোন বাক্যে ক্রিয়া অনুক্ত?
ক. খুব শীত লাগছে। খ. মনটা ভালো নেই আমার। গ. সাজিদ স্কুলে যায়। ঘ. আজ প্রচণ্ড গরম।
উত্তর: ঘ। ব্যাখ্যা: ক্রিয়াপদ বাক্যগঠনের অপরিহার্য অঙ্গ। ক্রিয়াপদ ছাড়া কোনো মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না। তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে। যেমন: i. আজ প্রচণ্ড গরম = আজ প্রচণ্ড গরম (অনুভূত হচ্ছে)। ii. ইনি আমার ভাই = ইনি আমার ভাই (হন)।
শব্দার্থ, বিপরীত শব্দ ও পরিভাষা MCQ
মনে রাখার টিপ: বিপরীত শব্দ ও পরিভাষা জোড়ায় জোড়ায় (যেমন ফরিয়াদি–আসামি, সন্ধি–বিগ্রহ) খাতায় লিখে রাখুন এবং প্রতিদিন কয়েকটি করে ঝালিয়ে নিন।
১১. 'প্রাকৃত' শব্দটির অর্থ–
ক. প্রকৃত খ. যথার্থ গ. যা করা হয়েছে ঘ. স্বাভাবিক
উত্তর: ঘ। ব্যাখ্যা: 'প্রাকৃত' একটি সংস্কৃতজাত শব্দ এবং বিশেষণ পদ; যার অর্থ স্বাভাবিক, প্রকৃতিজাত।
১২. 'মনীষা' শব্দের বিপরীত শব্দ–
ক. নির্বোধ খ. প্রভা গ. মনস্বিতা ঘ. স্থিরতা
উত্তর: ক। ব্যাখ্যা: 'মনীষা' শব্দের বিপরীত শব্দ– নির্বোধ। আরও কয়েকটি বিপরীত শব্দ: ফরিয়াদি–আসামি, সন্ধি–বিগ্রহ, আশু–বিলম্ব, বিদিত–অজ্ঞাত, রাজি–গররাজি, খাতক–মহাজন।
১৩. ‘Amplitude’ বাংলা পরিভাষা কোনটি?
ক. বিস্তৃত খ. বিস্তার গ. প্রসার ঘ. প্রসারিত
উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: ‘Amplitude’-এর বাংলা পরিভাষা হলো– বিস্তার। আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা: ordnance– সমরাস্ত্র, manifesto– ইশতেহার, epicurism– ভোগবাদ, postage– ডাকমাশুল, campaign– প্রচারাভিযান, book post– খোলা ডাক।
সাধারণ জ্ঞান MCQ ও ব্যাখ্যা (প্রশ্ন ১৪–২৫)
ভাষা আন্দোলন, সংস্কৃতি ও সংবিধান MCQ
মনে রাখার টিপ: ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা জারি হয় এবং ২১ ফেব্রুয়ারি তা ভঙ্গ করা হয়; দুটি তারিখ একসঙ্গে মনে রাখুন। বইমেলার ক্ষেত্রে ১৯৭২ সালে গোড়াপত্তন আর ১৯৮৩ সালে বাংলা একাডেমির আনুষ্ঠানিক আয়োজন আলাদা করে মনে রাখুন।
১৪. ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কার সভাপতিত্বে ছাত্র-যুবক সমাবেশ হয়?
ক. আব্দুল মতিন খ. গাজীউল হক গ. কাজী গোলাম মাহবুব ঘ. অলি আহাদ
উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ১ মাসের জন্য প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলে ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ভাষাসৈনিক আ ন ম গাজীউল হকের সভাপতিত্বে ছাত্র-যুবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
১৫. বাংলা একাডেমি কত সাল থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বইমেলা আয়োজন করে আসছে?
ক. ১৯৭২ খ. ১৯৭৭ গ. ১৯৭৮ ঘ. ১৯৮৩
উত্তর: ঘ। ব্যাখ্যা: ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চিত্তরঞ্জন সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণের বটতলায় একটুকরো চটের ওপর কলকাতা থেকে আনা ৩২টি বই সাজিয়ে বইমেলার গোড়াপত্তন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী মুহম্মদ মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমিতে প্রথম একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন সম্পন্ন করেন।
১৬. সম্প্রতি বাংলাদেশে কম্পিউটার কাউন্সিল কর্তৃক উন্মোচিত নতুন বাংলা ফন্টের নাম কী?
ক. পূর্ণ খ. বর্ণ গ. উচ্চারণ ঘ. কথা
উত্তর: ক। ব্যাখ্যা: অমর একুশে শহিদদের স্মরণে ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ বাংলা ভাষায় নিজেদের তৈরি বাংলা ফন্ট 'পূর্ণ' উন্মুক্ত করেছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল।
১৭. বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী পাশ হয় কবে?
ক. ৮ জুলাই ২০১৮ খ. ১২ জুলাই ২০১৮ গ. ৮ আগস্ট ২০১৮ ঘ. ১২ আগস্ট ২০১৮
উত্তর: ক। ব্যাখ্যা: ৮ জুলাই ২০১৮ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচনের বিধি আরো ২৫ বছর বহাল রাখার প্রস্তাব সংবলিত সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী পাশ হয়।
ভূগোল, পরিবেশ ও অর্থনীতি MCQ
মনে রাখার টিপ: সুন্দরবনের গাছ (গেওয়া, গড়ান, পশুর, বাইন, কেওড়া, ধুন্দল, সুন্দরী) আর পাহাড়ি বনের গাছ (গামার, গর্জন, চাপালিশ, সেগুন, চম্পা, জারুল) আলাদা দুই তালিকায় মুখস্থ করুন। জাতীয় আয়ের খাতসংখ্যা ভিত্তিবছর অনুযায়ী বদলায়; পরীক্ষার আগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতো সর্বশেষ সরকারি সূত্রে তথ্য মিলিয়ে নিন।
১৮. ঋতু পরিবর্তনের সাথে বায়ুর যে দিক পরিবর্তন হয়, তাকে কী বলে?
ক. অয়ন বায়ু খ. প্রত্যয়ন বায়ু গ. মৌসুমি বায়ু ঘ. স্থানীয় বায়ু
উত্তর: গ। ব্যাখ্যা: ঋতুভেদে বায়ুর যে দিক পরিবর্তন হয় তাকে মৌসুমি বায়ু বলে। স্থলভাগ এবং সমুদ্রের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে মৌসুমি বায়ু সৃষ্টি হয়।
১৯. কোন বৃক্ষটি সুন্দরবনে পাওয়া যায় না?
ক. গড়ান খ. গামার গ. বাইন ঘ. পশুর
উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: পাহাড়ি বনে তথা চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়ি বন এলাকায় গামার, গর্জন, চাপালিশ, সেগুন, চম্পা, জারুল প্রভৃতি বৃক্ষ পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, সুন্দরবনে গেওয়া, গড়ান, পশুর, বাইন, কেওড়া, ধুন্দল ও সুন্দরী প্রভৃতি বৃক্ষ পাওয়া যায়।
২০. 'পারকি' সমুদ্র সৈকত কোন জেলায় অবস্থিত?
ক. কক্সবাজার খ. পটুয়াখালী গ. চট্টগ্রাম ঘ. ভোলা
উত্তর: গ। ব্যাখ্যা: চট্টগ্রাম শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত পারকি সমুদ্র সৈকত। এ সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ১৩ কিলোমিটার। এটি কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত।
২১. বাংলাদেশের জাতীয় আয় গণনায় অর্থনীতিকে কয়টি খাতে ভাগ করা হয়?
ক. ১২ খ. ১৩ গ. ১৫ ঘ. ১৯
উত্তর: ঘ। ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের জাতীয় আয় গণনায় দেশের অর্থনীতিকে বৃহৎ তিনটি খাত– কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে বিভক্ত করা হয়। এছাড়া সার্বিকভাবে ২০০৫-০৬ ভিত্তিবছর অনুসারে ১৫টি খাতকে কেন্দ্র করে দেশের জাতীয় আয় পরিমাপ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় আয় পরিমাপের খাত ভিত্তি বছর ২০১৫-১৬ অনুসারে ১৯টি।
বিশ্ব ইতিহাস ও চলতি ঘটনা MCQ
মনে রাখার টিপ: "সম্প্রতি" শব্দযুক্ত প্রশ্নে ঘটনার তারিখসহ মনে রাখুন (যেমন ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এর চন্দ্রাভিযান)। পরীক্ষার আগে এ ধরনের তথ্য সর্বশেষ সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে মিলিয়ে নিন।
২২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয় কত সালে?
ক. ১৮৬৩ খ. ১৮৭২ গ. ১৮৭৭ ঘ. ১৮৮৩
উত্তর: ক। ব্যাখ্যা: যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ১৮৬৩ সালে ক্রীতদাস প্রথা বিলুপ্ত করেন। ১৮৬৫ সালে তিনি গৃহযুদ্ধ বন্ধ করেন। একই বছরে এক নাট্যশালায় নাটক দেখার সময় আততায়ীর গুলিতে তিনি নিহত হন।
২৩. ৫০ বছর পর কোন দেশ চাঁদে মহাকাশযান প্রেরণ করেছে?
ক. চীন খ. রাশিয়া গ. যুক্তরাষ্ট্র ঘ. ফ্রান্স
উত্তর: গ। ব্যাখ্যা: ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ৫০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশযান ষড়ভুজ আকৃতির রোবট অডিসিয়াস চন্দ্রপৃষ্ঠের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করে। এই চন্দ্রাভিযানে অর্থায়ন করেছে মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা। অন্যদিকে, টেক্সাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইনটুইটিভ মেশিন এই মহাকাশযান তৈরি করেছে ও চাঁদে পাঠিয়েছে।
২৪. শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা সম্প্রতি ভারতের কোন পদক পেয়েছেন?
ক. পদ্মভূষণ খ. পদ্মশ্রী গ. বঙ্গবিভূষণ ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: ভারতের মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী পদকে ভূষিত হন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। ২০২৪ সালে তিনি এই পুরস্কার লাভ করেন। উল্লেখ্য, ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ভারতরত্ন। এরপর রয়েছে যথাক্রমে পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী।
সাধারণ বিজ্ঞান MCQ
মনে রাখার টিপ: রং মেশানোর প্রশ্নে মূল রঙের সংমিশ্রণ মনে রাখুন; লাল ও নীল মিশলে বেগুনি রং তৈরি হয়।
২৫. কোন দুই রঙের মিশ্রণে বেগুনি রং তৈরি হয়?
ক. লাল ও আকাশি খ. নীল ও সাদা গ. সবুজ ও নীল ঘ. সাদা ও আকাশি
উত্তর: ক। ব্যাখ্যা: লাল ও নীল বা আকাশি রঙের মিশ্রণে বেগুনি রং তৈরি হয়।
উদাহরণ ও ব্যবহারিক প্রয়োগ
শর্টকাট সূত্র
- সাহিত্যের তিন যুগ: প্রাচীন (৬৫০–১২০০), মধ্য (১২০১–১৮০০), আধুনিক (১৮০১–বর্তমান) (প্রশ্ন ১)।
- প্রথমা বিভক্তির বহুবচন: রা, এরা, গুলি (গুলো), গণ (প্রশ্ন ৯)।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি, ইতি তার একটি; পরা, অধি, পরি সংস্কৃত (প্রশ্ন ৫)।
- শব্দগঠনের প্রক্রিয়া দুটি: প্রত্যয়যোগে ও সমাসযোগে; উপসর্গ শুধু উপাদান (প্রশ্ন ৬)।
- নিত্য সমাসের উদাহরণ: দেশান্তর, গ্রামান্তর, গৃহান্তর, দর্শনমাত্র (প্রশ্ন ৮)।
- মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি: এ, ঐ, ও, ঔ, ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ (প্রশ্ন ৪)।
- বইমেলা: ১৯৭২-এ গোড়াপত্তন, ১৯৮৩-তে বাংলা একাডেমির আনুষ্ঠানিক আয়োজন (প্রশ্ন ১৫)।
৭ দিনের প্রস্তুতি রুটিন
| দিন | কী পড়বেন | প্রশ্ন নম্বর |
|---|---|---|
| ১ | বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও ধ্বনি-বর্ণ | ১–৪ |
| ২ | ব্যাকরণ: উপসর্গ, প্রত্যয়, প্রকৃতি, সমাস, বিভক্তি, ক্রিয়া | ৫–১০ |
| ৩ | শব্দার্থ, বিপরীত শব্দ, পরিভাষা এবং আগের দুই দিনের পুনরালোচনা | ১১–১৩ ও ১–১০ |
| ৪ | ভাষা আন্দোলন, সংস্কৃতি ও সংবিধান | ১৪–১৭ |
| ৫ | ভূগোল, পরিবেশ ও অর্থনীতি | ১৮–২১ |
| ৬ | বিশ্ব ইতিহাস, চলতি ঘটনা ও সাধারণ বিজ্ঞান | ২২–২৫ |
| ৭ | সব প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি; যেগুলো ভুল হয়েছে সেগুলো আলাদা করে চিহ্নিত করে আবার পড়া | ১–২৫ |
গুরুত্বপূর্ণ টিপস ও সাধারণ ভুল
- সাল গুলিয়ে ফেলা সাধারণ ভুল; ১৯৭২ ও ১৯৮৩ (বইমেলা) পাশাপাশি রেখে মুখস্থ করুন।
- ১৮৬৩ (ক্রীতদাস প্রথা বিলুপ্তি) ও ১৮৬৫ (গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি) গুলিয়ে ফেলবেন না; ব্যাখ্যা পড়ে দুটির পার্থক্য বুঝে নিন।
- "খাঁটি বাংলা" উপসর্গের প্রশ্নে সংস্কৃত উপসর্গ (পরা, অধি, পরি) দেখে বিভ্রান্ত হবেন না; খাঁটি বাংলা ২১টির তালিকা মুখস্থ রাখুন।
- সুন্দরবন ও পাহাড়ি বনের গাছ গুলিয়ে ফেলা বহুল দেখা ভুল; দুটি তালিকা আলাদা করে লিখে রাখুন।
- "সম্প্রতি" ও "বর্তমানে" যুক্ত প্রশ্নের তথ্য সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে; পরীক্ষার আগে সর্বশেষ সরকারি সূত্রে মিলিয়ে নিন।
- উত্তর মুখস্থ করার পাশাপাশি ব্যাখ্যাটিও পড়ুন; একই তথ্য অন্যভাবে প্রশ্নে এলেও তখন সঠিক উত্তর দেওয়া সহজ হয়।
- অপশনে "কোনোটিই নয়" থাকলে সব অপশন যাচাই না করে সিদ্ধান্ত নেবেন না।
PDF ডাউনলোড করুন
প্রিন্ট বা অফলাইনে পড়ার জন্য ২৫টি MCQ-এর পূর্ণ সেটটি PDF আকারে ডাউনলোড করে নিন। নিচের লিংকে ক্লিক করলেই ফাইলটি পাবেন।
| PDF-এর নাম | বিবরণ | বিষয় ও প্রশ্নসংখ্যা |
|---|---|---|
| ৯ম গ্রেড সরকারি চাকরির MCQ ব্যাখ্যাসহ | উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ ২৫টি MCQ | বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং সাধারণ জ্ঞান, ২৫টি প্রশ্ন |
Frequently Asked Questions
চাকরির প্রস্তুতি শুরু হোক এখান থেকেই
Comments (0)
Be the first to comment.